Eng
রাজনীতি, লিড নিউজ

শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের পরিবারের পাশে জামায়াত আমির

প্রকাশিত: , ৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১:১৬ অপরাহ্ণ



গাজীপুরের শ্রীপুরে সম্প্রতি শ্রমিক আন্দোলনের সময় নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার সকালে নিহত তৌফিকের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি এই সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। জামায়াত আমির নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা এই অসহায় পরিবারের সহায় হোন, আমিন।’।

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান জানান, সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তিনি মরহুমের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দুজনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তৌফিকের বড় ভাই জানান, তারা দুই ভাই অনেক কষ্টে বড় হয়েছিলেন এবং আর্থিক টানাটানির কারণে একই পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ঘটনার দিন চোখের সামনেই তিনি তার ছোট ভাইকে হারিয়ে ফেলেন। তৌফিককে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন, ফলে ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা বলার সুযোগটুকুও পাননি।

তৌফিকের পরিবারের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির লেখেন, সদ্য বিধবা স্ত্রী অভাবের তাড়নায় ওই কারখানাতেই কাজ করতেন। তবে ১১ মাস বয়সী একমাত্র সন্তান সিয়ামের জন্মের পর লালন-পালনের জন্য তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। পরিবারটির নিজস্ব কোনো জমি নেই, এমনকি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তাদের এক শতাংশ জায়গাও নেই। বর্তমানে তারা স্বামীর চাচার ছোট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন, যা শুনে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন বলে জানান। শিশু সিয়ামের বয়স এখন মাত্র ১১ মাস। পরিবারটির এমন পরিণতি দেখে সত্যিই খুব খারাপ লাগছে।’।

তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশে গরিবের বিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা আছে জানি না, তবুও আমরা বিচার চাইব। এই ন্যায্য বিচারটুকু পেলে অন্তত এই বিধ্বস্ত পরিবারটি কিছুটা সান্ত্বনা পাবে।’ তিনি এই অসহায় পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এদিকে, পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় জামায়াতে ইসলামীর গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সাবেক আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমিরের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে উপস্থিত ছিলেন। তারা নিহতের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেন।