
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি পরীমণি। তার আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন দাখিল করেছিলেন। তবে বাদীপক্ষের আপত্তির মুখে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে পরীমণির জামিন বাতিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। আদালতে আত্মসমর্পণের পর সেই পরোয়ানা প্রত্যাহার করে নতুন করে জামিন দেওয়া হয়। মামলার কারণে তার জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছে ন পরীমণি। বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করলে, পরীমণির পক্ষের আইনজীবী সময়ের আবেদন দাখিল করেন।
মামলাটির সূত্রপাত ২০২১ সালের ৬ জুলাই, যখন ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আদেশ দেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর আদালত গত বছরের ২৫ জুন পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে হাজির হওয়ার সমন পাঠালে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন। বর্তমানে পরীমণি জানিয়েছেন, মামলার চলমান পরিস্থিতির কারণে তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বেশ চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।




