Eng
চট্টগ্রাম, লিড নিউজ

কসবায় ছাত্রদল কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

প্রকাশিত: , ৫ নভেম্বর ২০২৬ | ৩:১৬ অপরাহ্ণ



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নবগঠিত উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কসবা পৌর সুপার মার্কেট এলাকায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন পৌর শ্রমিক দলের সদস্য হোসেন মিয়া (৪০), উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল খাঁ (৩০), ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সদস্য রাব্বি মিয়া (২৫), এবং পৌর ছাত্রদলের নেতা রাসেদুল ইসলাম (২৭) ও মো. জুয়েল (৩০)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আহতরা সবাই কসবা-আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী। কসবায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোতে রাজনৈতিক বিভাজন দীর্ঘদিনের। একদিকে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা সক্রিয়, অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারীরা পৃথক বলয় তৈরি করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ১ নভেম্বর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তীর সই করা আংশিক কমিটিতে সংসদ সদস্যের অনুসারীদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের ১২ সদস্য ও পৌর ছাত্রদলের ১৩ সদস্যের নতুন কমিটি নিয়ে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা–কর্মী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত।

সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় যখন বুধবার সন্ধ্যায় কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী নবগঠিত কমিটির সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি আনন্দমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে পৌঁছালে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদ ও শহিদুল খাঁর নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূচনা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কমিটি বাতিলের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন সংসদ সদস্যের অনুসারীরা। রাজু আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নতুন কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।