
নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী
নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ দুইজন চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, শনিবার, নরসিংদী সদর থানা ও রায়পুরা থানা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নরসিংদী মডেল থানাধীন উত্তর বাগহাটা (বিলপাড়) এলাকায় একটি বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় মালামাল হাতিয়ে নেয়। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের অভিযান ও উদ্ধারকৃত মালামাল
অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নরসিংদী সদর থানা ও রায়পুরা থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে দুইজন চোরকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে নগদ ৬০,০০০ টাকা, স্বর্ণালংকার হিসেবে দুটি নাকফুল, কিছু আসবাবপত্র এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃত চোররা দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদীসহ আশপাশের এলাকায় চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তারা চুরি করা মালামাল দ্রুত বিক্রি করতে “চেরাইকারবারি”দের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং এজন্য বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করত।
স্থানীয়দের স্বস্তি ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযানের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় রাতের বেলা ভয়ে তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারতেন না। পুলিশের এ সফল অভিযানে এলাকাবাসী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং একইসঙ্গে দাবি জানান, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। নতুন এই ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তাই সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আইনগত ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তে তাদের সহযোগী কারা এবং কোথায় কোথায় চুরি করেছে তা বের করা হবে। এছাড়া, উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মালামাল আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
অপরাধ দমনে পুলিশের উদ্যোগ
নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতি রোধে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকেও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অপরিচিত ব্যক্তির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলে অপরাধ দমন সহজ হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
শেষকথা
নরসিংদীতে সাম্প্রতিক এই সফল অভিযান পুলিশের দক্ষতা ও তৎপরতার প্রমাণ দিয়েছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। গ্রেফতারকৃত দুই চোরের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে, এবং তদন্ত শেষে তাদের অন্যান্য অপরাধও উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।