
ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজশাহীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দুই নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ করা হয়েছে—জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত স্থানীয় এক ব্যক্তি দুই বিএনপি নারী কর্মীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। এই অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী দুই বোন নিলুফা ইয়াসমিন এবং নূরবানু বেগম। তারা দাবি করেন—গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় পবা উপজেলার আশরাফের মোড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ফেরার পথে জামায়াতকর্মী নুরুল ইসলাম (৫৫) তাদের পথরোধ করে এবং পরে গালাগালসহ শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রফেসর আব্দুল রাজ্জাক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, নুরুল ইসলাম দুই নারীকে পেছন থেকে ডাক দিয়ে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা এতে রাজি না হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রথমে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। পরে তিনি তাদের ওপর হাত তোলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী নিলুফা ইয়াসমিন জানান, “নুরুল প্রথমে স্যান্ডেল খুলে আমাকে আঘাত করতে শুরু করে। আমার বোন প্রতিরোধ করতে গেলে তার ঘাড়ে আঘাত লাগে। এর কিছুক্ষণ পর সে দৌড়ে এসে আমার পেটে জোরে লাথি মারে।” তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনার পরেই নূরবানু বেগম কাটাখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কাউকে হুমকি দেওয়া বা আক্রমণ করা গণতান্ত্রিক আচরণের পরিপন্থী। কেউ কাউকে জোর করে কোন দলের পক্ষে প্রচারে বাধ্য করতে পারে না। এ ধরনের ঘটনা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” তিনি দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার কিছু অংশ স্বীকার করলেও পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “কিছুদিন ধরে বলা হচ্ছিল আমি নৌকায় ভোট দিয়েছি। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আমি জেলে ছিলাম। এসব কথা আমাকে অপমান করে। রাগের মাথায় আমি শুধু একটা থাপ্পর দিয়েছি, এর বেশি কিছু করিনি।” তার দাবি, ঘটনাটি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাটাখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, “একজন নারী জিডি করেছেন। তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামায়াতের কর্মী। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় এলাকায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন—তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।