
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র। তাঁর স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতের শেষ প্রহরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, হাদি ছিলেন একটি সময়ের কণ্ঠস্বর, যিনি তার অবস্থান থেকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ড. ইউনূস আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে হাদির ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সে কারণেই তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশের বাইরে অবস্থিত সব বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
হাদির মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অবদান স্মরণ করে শোকবার্তা দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী ও আপসহীন একজন সংগঠক, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে কখনো পিছপা হননি।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকেও এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদি শুধু একজন মুখপাত্রই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রজন্মের চিন্তা ও প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
রাষ্ট্রীয়ভাবে পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্তকে অনেকে হাদির প্রতি সম্মানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও স্বীকৃত।
হাদির জানাজা ও দাফনসংক্রান্ত বিস্তারিত কর্মসূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ।