মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়নে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

ক্রাইম এডিশন, অনলাইন ডেস্ক:

 

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তবে এই ঘোষণার পরপরই দলটির তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে চার প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দলীয় আড্ডা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘদিন মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কেন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হলো।

বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, কখনোই তিনি কোনো দলের আনুষ্ঠানিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সোমনাথ দে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন। তিনি একসময় জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করেছেন এবং বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। এ কারণে বিএনপির ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে।

মনোনয়ন ঘোষণার পর বিএনপির একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা নেতা-কর্মীরা উপেক্ষিত হয়েছেন। একাধিক কর্মী লিখেছেন, দমন-পীড়নের সময় যারা মাঠে ছিলেন, তাঁদের পরিবর্তে নতুনদের মনোনয়ন দেওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে। তবে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া তারা কেন্দ্রকে জানাচ্ছেন। জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী মানসিকভাবে আহত। দীর্ঘদিন দল করেও মনোনয়ন না পেয়ে তারা হতাশ।”
এদিকে বাগেরহাট-২ আসনে মনোনয়ন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় বিএনপির একাংশ মশালমিছিল করেছে। তারা দাবি করেছে, পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তেও যেতে পারে দলীয় কর্মীরা।
সব মিলিয়ে বাগেরহাটে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে যে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনী সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ক্ষোভ যদি প্রশমিত না হয়, তাহলে নির্বাচনী মাঠে এর প্রতিফলন ঘটতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews