
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) তার পক্ষে ব্যক্তিগত সহকারী সানাউল্লাহ রায়পুরা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ বিষয়টিকে আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে আলোচনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা মতামত উঠে এসেছে।
ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান রাজনৈতিকভাবে একটি পরিচিত পরিবারের সদস্য। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৎ বোন আমেনা বেগমের নাতি এবং শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের উত্তরসূরি। পারিবারিক এই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কারণে তিনি এর আগেও বিভিন্ন সময় আলোচনায় ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তার নামটি পরিচিত হলেও নির্বাচনী মাঠে তার সক্রিয় ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে ভোটারদের মধ্যে।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমানের কোন বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে তার নির্বাচনী পরিকল্পনা, লক্ষ্য বা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সাপেক্ষেই মনোনয়নপত্র প্রদান করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী যেকোনো যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নরসিংদী-৫ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানে প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটের হিসাব নানা সমীকরণের ওপর নির্ভর করে। নতুন করে কোনো আলোচিত ব্যক্তির অংশগ্রহণ নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।
আগামী দিনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এই আসনের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।