
রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসায় খুন হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা। নিহত ব্যক্তির নাম মো. আনোয়ারুল্লাহ (৬৫)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাসার বারান্দা ও একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা আনোয়ারুল্লাহকে গলাটিপে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে সকালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
নিহত আনোয়ারুল্লাহ কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার লক্ষণপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি শেরেবাংলানগর দক্ষিণ থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং এলাকায় একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে উল্লেখযোগ্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যায়নি। শুধু হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় তারা সন্দেহ করছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুজন ব্যক্তি প্রথমে বাসার গ্রিল কাটে এবং পরে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বাসার ভেতরে অবস্থান করে। এত দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এখনো এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের হয়নি, তবে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও হত্যার ধরন আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট নেতারা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আনোয়ারুল্লাহ ন্যায়, সত্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল—তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।