রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

কারামুক্ত সাদ্দাম স্ত্রীর সন্তানের কবরে অশ্রু ঝরালেন

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেই গভীর শোকের মুখোমুখি হলেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর পরিবারের কাছে ফেরার মুহূর্তটি তার জন্য হয়ে ওঠে বেদনাবিধুর। কারণ, যে পরিবারে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল আনন্দ আর স্বস্তি নিয়ে—সেই পরিবারই এখন স্মৃতি আর শূন্যতার প্রতীক।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাদ্দাম। মুক্তির পর সন্ধ্যার দিকে তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছান। বাড়িতে পৌঁছেই কোনো বিশ্রাম না নিয়ে প্রথমেই তিনি ছুটে যান তার স্ত্রী ও সন্তানের কবরের কাছে।
কবরস্থানে পৌঁছে স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তানের কবরের মাটি স্পর্শ করে অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত স্বজনদের চোখেও তখন জল, চারপাশে নেমে আসে ভারী নীরবতা। দীর্ঘদিনের বন্দিজীবনের পর এমন নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না তিনি।
এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার, শ্যালক শুভ হালদার, ভাই শহিদুল ইসলামসহ উভয় পরিবারের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। অনেকেই তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে শোকের ভার ছিল অসহনীয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সাদ্দামের ছয় মাসের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ঘটে যায় জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশে নয় মাস বয়সী শিশু পুত্র নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, মানসিক বিষণ্ণতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেন।
এর পরদিন ২৪ জানুয়ারি প্যারোলের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর না হওয়ায়, মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময়ও সাদ্দাম শেষবারের মতো প্রিয়জনদের মুখ দেখতে পারেননি।
জামিনে মুক্তি পেয়ে অবশেষে স্ত্রী ও সন্তানের কবরের সামনে দাঁড়াতে পারলেও সেই দৃশ্য ছিল শোক আর বেদনার। এলাকাবাসীর ভাষায়, এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য অনেকদিন মনে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews