
হবিগঞ্জে এক জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তিনি ও তাঁর দল জনগণের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতে চান। জনগণের অর্থ অপব্যবহার করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজনে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনের কথাও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত পেশা নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে তারা দেখেন। তাঁর ভাষায়, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তাদের অনেকেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে—যার প্রকৃত মালিক দেশের সাধারণ জনগণ।
তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। চাঁদাবাজি ও মামলার ভয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বংশানুক্রমিক রাজনীতির ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির প্রভাব বিস্তার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য সাধারণ মানুষ দায়ী নয়—যারা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মূল দায়ভার তাদের ওপরই বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের অভাবই দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে বড় বাধা।
তিনি আরও বলেন, ভোটের সময় অনেক রাজনৈতিক নেতা সাধারণ মানুষের কাছে ভিন্ন রূপে হাজির হন, কিন্তু পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর মাঠে নামার কথা উল্লেখ করেন তিনি। দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন।
ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি সুশাসিত রাষ্ট্রে ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তায় রাত কাটাতে হবে না এবং ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চোখের পানি ফেলতে হবে না—এমন পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাদের রয়েছে।
সমাবেশটি জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।