
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নির্বাচনী পরিবেশ ঘিরে কালো টাকার প্রবেশ ও ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এসব অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, দেবিদ্বারের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেবিদ্বারের বিভিন্ন প্রান্তে কালো টাকা প্রবেশ করছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। কোথাও এ ধরনের ঘটনা চোখে পড়লে তা যেন দ্রুত এনসিপির নির্বাচনি কন্ট্রোল রুম ও প্রশাসনকে জানানো হয়—এমন অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, খবর পেলেই তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করবেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ভোট জনগণের একটি পবিত্র অধিকার এবং এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে কোনো ধরনের টাকার ছড়াছড়ি মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, জাফরগঞ্জ এলাকায় কিছু স্বর্ণকারের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। পাশাপাশি বরকামটা ইউনিয়নের কয়েকজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি করেন। এছাড়া সুলতানপুর, রাজামেহের ও ফতেয়াবাদ ইউনিয়নেও অর্থ লেনদেন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, কোথাও অর্থসহ কাউকে পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা টাকার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের পরিচয় প্রমাণসহ জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে কিছু উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্যও করেন প্রার্থী। তিনি বলেন, কেউ টাকা নিয়ে বের হলে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেবিদ্বার এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।