
ঢাকা-১৫ আসনে ভোটের লড়াই ঘিরে তৈরি হয়েছে বেশ চমকপ্রদ ও উত্তেজনাপূর্ণ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ ভোটকেন্দ্রে পরাজিত হলেও সামগ্রিকভাবে একাধিক কেন্দ্রে এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ বালক শাখা কেন্দ্রে ভোট দেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে ওই কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫৬০ ভোট। একই কেন্দ্রে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫৬৫ ভোট। অর্থাৎ নিজ কেন্দ্রেই পাঁচ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন জামায়াত আমির।
কেন্দ্রটিতে মোট ভোট পড়েছে ১ হাজার ১৭৪টি। এর মধ্যে ২৭টি ভোট বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফল ঘোষণার পর স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন, একটি কেন্দ্রের ফলাফল দিয়ে সামগ্রিক চিত্র বিচার করা ঠিক হবে না।
অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনের মোট ১২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬টির ফলাফল পাওয়া গেছে বলে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এসব কেন্দ্রে ডা. শফিকুর রহমান ৪১ হাজার ৩৯০ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৩০ হাজার ৩২৬ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার রয়েছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। শুরুতে উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের ভিড় বাড়ে বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। কোথাও এগিয়ে থাকার দাবি, কোথাও অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের পরই চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।
নিজ কেন্দ্রে পরাজয়ের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করছেন, জাতীয় নির্বাচনে সামগ্রিক ফলাফলই শেষ কথা। একটি কেন্দ্রের ফল পুরো আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করে না।
এদিকে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ঢাকা-১৫ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল এখন সময়ের অপেক্ষা। রাজনৈতিক অঙ্গনে কে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন, তা জানতে নজর সবার নির্বাচনী গণনার দিকে।