
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে আবারও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে, যা দুই বছর আগের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
আলোচনায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের জেরে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে লেখা পোস্টগুলোর কারণে এসব ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনসিপির একটি অঙ্গ সংগঠনের এক যুগ্ম সদস্য সচিবকেও একই ধরনের ঘটনায় আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, যদি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে সেটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আলাদা আইন করে সমালোচনা, মতপ্রকাশ বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ নিষিদ্ধ করা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দমনমূলক প্রবণতার লক্ষণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও এমন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছিল, যা এখন আবার ফিরে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিচার বিভাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্প্রতি ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার ঘটনা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, বিচারকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আলোচনার স্ক্রিনশট সরকারের পছন্দ না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে বিচারকদের ওপর পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি বিচারকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও মত বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণাও প্রকাশ করা হয়।
সমগ্র পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বক্তারা মনে করছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।