
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় খতনা করাতে গিয়ে এক শিশুর অঙ্গহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খলিলুর রহমান নামের এক ফার্মেসি মালিককে আটক করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খলিলুর রহমান পেশায় একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী। তার স্থায়ী বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলায় হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন ছাড়া তিনি শিশুটির খতনা করার চেষ্টা করেন, যার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
অভিযোগের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে তিনজন ব্যক্তি শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে আসে। তিনি প্রথমে শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় সজীব নামের একজন নিজেকে শিশুটির মামা হিসেবে পরিচয় দেন বলে দাবি করেন তিনি। শিশুটিও একই কথা জানিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন খলিলুর।
তিনি আরও দাবি করেন, খতনা করার সময় শিশুটিকে যিনি ধরে রেখেছিলেন, তিনি হঠাৎ হাত ছেড়ে দেন। এতে শিশুটি নড়াচড়া করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে তার বক্তব্য। তবে এই দাবি কতটা সত্য, তা যাচাই করছে পুলিশ।
খলিলুর রহমানের কোনো আনুষ্ঠানিক সনদ বা প্রশিক্ষণ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি একজন ফার্মাসিস্ট এবং এলএমএফ ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া এমসিএইচ নামে একটি কোর্সও করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের শল্যচিকিৎসা সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রয়োজন।
এদিকে, শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে গুরুতর ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কারো গাফিলতি বা অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি শিশুটির পরিবার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খতনার মতো সংবেদনশীল চিকিৎসা অবশ্যই প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে করানো উচিত। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে, যা শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।