
ঢাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কার্যক্রমকে ঘিরে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত তিন দিনে বিপুল সংখ্যক মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা পড়েছে, যার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য গত ১০ এপ্রিল থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করে বিএনপি, যা টানা তিন দিন ধরে চলে। এই সময়ের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের এক সদস্য জানিয়েছেন, প্রথম দুই দিনে এক হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। তবে শেষ দিনের সঠিক পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, দলের সহদপ্তর সম্পাদক পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, তিন দিনে মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ফরম বিক্রি থেকেই প্রায় ২৬ লাখ টাকার মতো আয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, জমা পড়া মনোনয়নপত্রের সংখ্যাও কম নয়। জানা গেছে, প্রায় ৯০০টি ফরম জমা পড়েছে। প্রতিটি ফরম জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা ফি জমা দিতে হয়েছে। সেই হিসাবে এই খাত থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মতো অর্থ জমা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে ফরম বিক্রি ও জমা বাবদ মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রার্থীর মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, মনোনয়ন জমা দিতে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় অনেকেই আর্থিকভাবে চাপে পড়ছেন। কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ থাকলেও এত বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুসারেই পুরো মনোনয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তবে আর্থিক বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থের বিষয়টি সামনে আসলে তা জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।