Eng
অপরাধ, আইন-আদালত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জাতীয়, নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া, লিড নিউজ, সারা দেশ, সোশ্যাল মিডিয়া

তারেক রহমানের সফর ঘিরে সড়ক সংস্কার, পরে ইট অপসারণ

প্রকাশিত: , ১১ ২০২৬ | ০:১৯ অপরাহ্ণ




বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করার পর তা আবার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত এপ্রিল মাসে একটি সরকারি কর্মসূচি উপলক্ষে ওই এলাকায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে একটি সংযোগ সড়ক পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তায় ইট ও বালু ফেলে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সফর শেষে কিছুদিনের মধ্যেই সেই ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য আগে থেকেই অর্থ বরাদ্দ এবং কার্যাদেশ থাকলেও দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। ফলে সাময়িক সংস্কারের পর পুনরায় রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ কী।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ রয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান আছে। তবে সীমানা নির্ধারণসহ কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। বর্তমানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ সফরের সময় জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ কাজে সড়কের একটি অংশ ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্যয়ের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, জেলা পর্যায়ের এক প্রকৌশলী দাবি করেন, অস্থায়ী ব্যবহারের জন্য ইট ভাড়ায় সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার ভাষ্যমতে, স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরুর আগে সাময়িকভাবে রাস্তা ব্যবহারযোগ্য রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজন শেষ হওয়ায় ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পরিবর্তে সাময়িক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা জনস্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।