
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট বলে জানা গেছে। রোববার (১৪ জুন) সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মামলার দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জেল আপিল দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট আপিল দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয় বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ও আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্তকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ একাধিক সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন বলে জানা গেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করেন।
আইনজীবীদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোতে উচ্চ আদালতের পর্যালোচনা একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। তাই জেল আপিল গ্রহণের মাধ্যমে মামলাটির বিভিন্ন দিক পুনরায় বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।
এদিকে আলোচিত এ মামলার সর্বশেষ আইনি অগ্রগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মামলার দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে বলে আইন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।