
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (১৪ জুন) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে আটক করেছে।
তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ কিংবা ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বলে জানা যায়।
দুদকের মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পদ বিবরণীতে যে পরিমাণ সম্পদের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল, তদন্তে তার চেয়ে বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তদন্তকারীরা বেনজীর আহমেদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস, বৈধতা এবং ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের মিল রয়েছে কি না, তা নিয়েই তদন্ত পরিচালিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় আদালতে মামলা ও অভিযোগপত্র দাখিলের পর আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যায়।
এদিকে দুবাইয়ে আটকের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে আটক, প্রত্যর্পণ কিংবা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঘটনার বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।