
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর ভুট্টাখেত থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে একটি ভুট্টাখেতের ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু চিহ্ন দেখতে পান কয়েকজন এলাকাবাসী। খেতের ভেতরে প্রবেশ করে তারা মাটিচাপা দেওয়া একটি বস্তা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহতের বাবা বলেন, পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো ধরনের বিরোধ ছিল না। তিনি দাবি করেন, তার মেয়ের মৃত্যুর পেছনে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
শিশুটির মা বলেন, বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকটি ভুট্টাখেত রয়েছে। তার অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে কৌশলে অথবা জোরপূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ক্ষতি করে থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
খবর পেয়ে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
আদিতমারী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া গেলেও চূড়ান্তভাবে কিছু বলতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।