বেনজীরকে দেশে ফেরাতে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে ১৪৪ পাতার নথি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথি পাঠানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ এবং আইনি সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি পারস্পরিক সমঝোতা ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থার আওতায় অতীতেও কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকেও দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো আইনি জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
এ সময় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার আশঙ্কা থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে এবং সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দুবাই কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে জানা গেছে।