৩ মাসে যা উন্নয়ন হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি: দাবি ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, বর্তমান সরকারের গত তিন মাসে যে পরিমাণ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরেও সম্ভব হয়নি।
শনিবার (২০ জুন) গজারিয়া উপজেলার একাধিক উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সফরের শুরুতে মন্ত্রী ভবেরচর বাজার এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই তলা বিশিষ্ট একটি গ্রামীণ বাজার ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি কালীগাছতলা থেকে ব্র্যাক অফিস-ইমামপুর সড়কের পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক উন্নয়ন কাজ স্থানীয় জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এছাড়া সফরের এক পর্যায়ে তিনি রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় প্রস্তাবিত ফুলদী সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর অন্যতম দাবিগুলোর মধ্যে এই সেতু নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে যে, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন বলে জানা গেছে, গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফুলদী সেতু প্রসঙ্গে তিনি জানান বলে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে নদী পারাপারে মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমতও থাকতে পারে। তার বক্তব্যকে রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন অনেকে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র ও কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।