
ডেস্ক রিপোর্ট:
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর বোন মাসুমা হাদি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত না করার উদ্যোগের পেছনে কোনো চক্রান্ত থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই সংশ্লিষ্ট একটি বৈঠকে ভবিষ্যতে ওসমান হাদির জীবন, কর্ম এবং শাহাদাতের ঘটনাকে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে তাঁর বীরত্বগাথা যুক্ত করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, সে বিষয়েও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে আলোচনা রয়েছে।
এমন তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, তাঁর ভাই শহীদ হওয়ার পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন, যাতে ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
মাসুমা হাদির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছিলেন। এ জন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন শুধুমাত্র একটি শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে তাঁর জীবনী সীমাবদ্ধ রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি শুধু শিশুদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক নন; বরং দেশের বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছেও তিনি সাহস ও আত্মত্যাগের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হন। সে কারণে তাঁর জীবনকাহিনি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, যদি সত্যিই ওসমান হাদির বীরত্বগাথা পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত হতাশাজনক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শহীদ ওসমান হাদির জীবন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা উচিত।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নতুন ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে পাঠ্যবইয়ে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।