বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এইচএসসি জীববিজ্ঞান পরীক্ষায় প্রশ্ন ভুলের অভিযোগ, বোর্ডের পর্যালোচনা শুরু ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে এলো নতুন সুখবর বিএনপিকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে জামায়াত নেতা অভিযুক্ত যশোরে গভীর রাতের অভিযানে ধরা পড়লেন ডেভিড ইমন সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোশাররফ হোছাইন ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি আপিল বিভাগে স্বস্তি, সংসদে যোগ দিতে পারবেন সরোয়ার হবিগঞ্জে সারজিস-পাটওয়ারীসহ এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ রাষ্ট্রপতি হওয়ার গুঞ্জনে মুখ খুললেন মির্জা ফখরুল

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে জামায়াত নেতা অভিযুক্ত

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পটুয়াখালী সদর উপজেলার এক যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে এখনও আদালতে বিচার শেষ হয়নি।

আদালত সূত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামকে। পরে বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে এজাহার গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও বিয়ের প্রস্তাব দিতেন বলে দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে বোনের বাসায় নেওয়ার কথা বলে পটুয়াখালী শহরে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি করেছেন বাদী।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তি গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় চিকিৎসার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও থানায় পৌঁছায়নি। কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো এখন তদন্ত ও বিচারাধীন। আদালতের রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী বলা যায় না।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews