
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এবার জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, নৈর্ব্যক্তিক অংশের কয়েকটি প্রশ্নে বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের মধ্যে মিল না থাকায় তারা পরীক্ষার হলে বিভ্রান্তির মুখে পড়েছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নপত্রের নৈর্ব্যক্তিক অংশের তিনটি প্রশ্নে অসামঞ্জস্য ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলা সংস্করণের সঙ্গে ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নে পার্থক্য থাকায় সঠিক উত্তর নির্বাচন করতে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। এ কারণে পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একজন পরীক্ষার্থী জানান, ইংরেজি সংস্করণের একটি প্রশ্নসেটে ১৫, ১৮ ও ২৫ নম্বর নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ভুল বা অসঙ্গতি ছিল বলে তাদের মনে হয়েছে। এসব প্রশ্নের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ ওঠে।
এর আগে চলতি এইচএসসি পরীক্ষার রসায়ন প্রথম পত্রের ইংরেজি সংস্করণের একটি সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করতে একাধিক বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি পর্যালোচনায় প্রশ্নে সত্যিই কোনো ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর নম্বর প্রদানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও যাচাইয়ের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হলে এ ধরনের অভিযোগ কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার ফলাফলের দিকেই এখন অপেক্ষা করছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বিষয়টি সম্পর্কে চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।