
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির স্থানীয় সংগঠক আলিফ চৌধুরীর বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে দাবি উঠেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ডা. মিতু জানান, হামলায় গুরুতর আহত আলিফের চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, হামলার সময় লোহার রডের আঘাতে আলিফ চৌধুরীর একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আলিফ চৌধুরী গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডা. মাহমুদা মিতুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপির নেতারা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মত প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় একজন তরুণ কর্মীর স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির খবর জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয় এবং হামলার অভিযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বক্তব্যের ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে হামলার দায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।