
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিকাকে একটি নতুন মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওই শিক্ষার্থী নিজের অপহরণের গল্প তৈরি করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের কাছে একটি আইপি নম্বর থেকে ফোন আসে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ফোনে মারধরের শব্দ শোনানো হয় এবং শিক্ষার্থীকে জীবিত ফেরত পেতে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একটি বিশেষ টিম শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত করে বলে পুলিশ জানায়। পরে রাজশাহী শহরের একটি স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, তদন্তে অপহরণের কোনো বাস্তব ঘটনা পাওয়া যায়নি। বরং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থী নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। আরও জানা গেছে, তিনি নিজের ব্যবহৃত আইপি নম্বর ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মুক্তিপণের দাবির ঘটনাও নিজেই সাজিয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিকাকে একটি নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কিত করতে মারধরের শব্দও অভিনয়ের মাধ্যমে শোনানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিক্ষার্থী নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করছে। পরবর্তীতে তাকে কাউন্সেলিং করা হয় এবং পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এমন ঘটনার মাধ্যমে পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ হওয়া এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সার্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময় ও সম্পদের অপচয় হয়। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।