
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
একসময় বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত আলোচিত একটি ভবন ছিল সেরনিয়াবাত ভবন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এই ভবনকে ঘিরেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভবনটির চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং এলাকাবাসীর দাবি, ভবনের আশপাশে এখন শিয়াল ও পথকুকুরের বিচরণ দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ভবনটি হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে ভবনের বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে ভবনটির সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় সেখানে আগাছা জন্মেছে এবং পরিবেশও অনেকটা নির্জন হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর এলাকাটি প্রায় জনশূন্য হয়ে যায় বলেও তারা উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, রাতে শিয়াল ও কুকুরের আনাগোনা নিয়মিত দেখা যায়।
জানা গেছে, সেরনিয়াবাত ভবনের ইতিহাস কয়েক দশক পুরোনো। প্রথমদিকে সেখানে একটি সাধারণ বাসভবন ছিল। পরে ধীরে ধীরে ভবনটি সম্প্রসারণ করা হয় এবং এটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং পরে তার ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে ভবনটির নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একসময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক ও দলীয় সিদ্ধান্ত এই ভবনকে কেন্দ্র করেই অনুষ্ঠিত হতো। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরাও নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভবনটির গুরুত্ব দ্রুত কমে যায়।
এলাকাবাসীর মতে, বর্তমানে ভবনটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি শুধু একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়নি, বরং এলাকায় নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভবনটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সামগ্রিকভাবে বলা হচ্ছে, একসময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সেরনিয়াবাত ভবন আজ অনেকটাই নীরব ও পরিত্যক্ত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের জৌলুস হারিয়ে বর্তমানে এটি কেবল একটি স্মৃতিবাহী স্থাপনা হিসেবেই দাঁড়িয়ে রয়েছে।