মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সম্পত্তি দানেও আজীবন অধিকার রাখবেন বাবা-মা ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, বাজারদর কমার আশা গাজীপুর ভূমি অফিসে অনিয়ম অভিযোগে চার কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ১৫ টাকার চালে ৫৫ লাখ পরিবার, ছয় মাস সুবিধা মিলবে মৃত শিক্ষকের বেতন ইস্যুতে বিস্ফোরক বক্তব্য অভিযুক্ত নেতার কর্ণফুলীতে বস্তাবন্দি তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড নিয়ে জানুন প্রয়োজনীয় সব তথ্য স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে বিষের বোতল হাতে অনশনে বসেন তরুণী একসময়ের ক্ষমতার কেন্দ্র, এখন পরিত্যক্ত সেরনিয়াবাত ভবন চত্বরে নীরবতা আগস্টেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি

মৃত শিক্ষকের বেতন ইস্যুতে বিস্ফোরক বক্তব্য অভিযুক্ত নেতার

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় এক মৃত শিক্ষকের নামে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন। তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, একই নামের এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের পর রোববার রাতে তজুমদ্দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মো. মহিউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বর ৮০৫ এবং দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি ওই হিসাব থেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা ৪৬০৬ নম্বর ব্যাংক হিসাব বা সংশ্লিষ্ট ইনডেক্সের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মহিউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানে একই নামে দুজন শিক্ষক থাকায় অতীতে প্রশাসনিকভাবে তথ্য সংরক্ষণের সময় জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।
এদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীও এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যক্তিগত বিরোধের ফল হতে পারে বলে তাদের ধারণা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং এত বছর পর নিয়োগ ও বেতন নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালে একই নামের অন্য এক ব্যক্তি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর একই নামের আরেক শিক্ষক পূর্বের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের সুবিধা ভোগ করার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিও সংক্রান্ত নথিতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে কিছু অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় এখনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews