
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
গাজীপুরের একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় প্রাথমিকভাবে কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, রোববার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। পরিদর্শনের সময় তিনি অফিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। পরে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের কিছু বিষয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান এবং আব্দুল হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভূমি সংক্রান্ত সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোনো সরকারি দপ্তরে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
এদিকে পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক একই দিনে সফিপুর এলাকার আরও একটি ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। সেখানে সেবার মান ও অফিস পরিচালনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে এবং হয়রানিমুক্তভাবে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা পেতে পারবেন। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিষয়টিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।