রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন

যৌতুক দাবির অভিযোগে ৪৩তম বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামে স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার জন্য চাপ ও হয়রানির অভিযোগে ৪৩তম বিসিএস ক্যাডারের এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. মাকসুদুল হাসান (৩৪)। তিনি বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও মামলার নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে, নগরীর পাঁচলাইশ থানার আওতাধীন শুলকবহর এলাকার কালা মুন্সি লেইনে থাকা একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায় বলে জানানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এক তরুণীর সঙ্গে মাকসুদুল হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ওই তরুণীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারায় তাকে মানসিক চাপ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে মাকসুদুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে জানা গেছে। মামলাটি যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারায় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে শুলকবহরের কালা মুন্সি লেইনের একটি বাসা থেকে মাকসুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে মাকসুদুল হাসানকে ঘিরে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জুলাই মাসের শুরুতে বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে তার কথিত সম্পর্কের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা স্থানীয়ভাবে জানা যায়। ওই তরুণী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও এবং বর্তমানে দায়ের হওয়া যৌতুকের মামলাটি একই ঘটনার অংশ কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দুটি বিষয়কে পৃথক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এই প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে না। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যৌতুকের অভিযোগ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে একটি গুরুতর বিষয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলার এজাহার, তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়ার কথা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews