বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

১১ শিক্ষকের স্কুলে তিন পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ জন হলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র তিনজন।

জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক এবং পাঁচজন স্টাফসহ মোট ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। পরে ২০০৫ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমোদন পায় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, বিদ্যালয়টির ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং তারা সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। এবার বিদ্যালয়টি থেকে মানবিক বিভাগের তিন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনজনের কেউই পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার এবার শূন্য শতাংশ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে এমন বিপর্যয় দেখা যায়নি। তিনি বলেন, তিন শিক্ষার্থীই গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ অবস্থার পেছনে গণিত বিষয়ের শিক্ষক ফারুক খালেকের দীর্ঘদিনের অসুস্থতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই শিক্ষক শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যার মধ্যেও ছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলেও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পেছনে এসব কারণের প্রকৃত প্রভাব কতটা ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে একই জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলে জানা গেছে। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলও শূন্য শতাংশ।

দুটি বিদ্যালয়ের এমন ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কেন শিক্ষার্থীদের এমন ফল হয়েছে এবং এর পেছনে শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে জেলা শিক্ষা প্রশাসন।

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, বিদ্যালয় দুটির ফলাফলের কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটি পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল প্রত্যাশিত নয়। তবে শূন্য পাসের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews