বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সালমান শাহ হত্যা মামলায় জামিন পেলেন না ডন

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার আদালতে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডন ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ডনের পক্ষে আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহার ও গ্রেপ্তারসংক্রান্ত নথিতে ডনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ নেই। তিনি কথিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও তার আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ডনের জামিনের বিরোধিতা করে। মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। তখন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ডন দীর্ঘদিন ধরে মামলায় পলাতক ছিলেন। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে ভোরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে বলে জানা গেছে। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি ছিল, ডনকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাকে জামিনে মুক্তি দিলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি ফের আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়। ওই আবেদনের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
সিআইডির একটি তদন্ত প্রতিবেদনে একপর্যায়ে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের আদেশের পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে মামলায় আসামি হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। আদালতে অভিযোগের বিচার ও তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সালমান শাহর মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ নিয়ে বাদীপক্ষের পক্ষ থেকেও আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার তদন্তে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও আদালত-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews