
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সচিবালয়ে বিএনপির কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে সমালোচনা উঠেছে, তার জবাবে তিনি এ কথা বলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিষয়টি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এদিন সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব আগে থেকেই দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি দলের নেতাদের ডেকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছেন। ফলে এটিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ২টার পর আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যায়। পরে দুপুর ২টা ২৪ মিনিটের দিকে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলের মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বিষয়টি নিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠক ছিল না। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আগেই দলীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন এবং প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা ওঠার পর দলটির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সচিবালয়ে কী ধরনের আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিএনপির নেতারা অবশ্য এটিকে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হিসেবে স্বীকার করছেন না। তাদের বক্তব্য, দায়িত্ব অর্পণের পর দলীয় চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। প্রার্থিতা যাচাই ও নির্বাচনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।