
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেরপুরে স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে মো. সোহাগ মিয়া (২৯) নামে এক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে শেরপুর সদর সিআর আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোহাগ মিয়া বর্তমানে বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে স্ত্রী মোছা. লাকী আক্তার যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন। আদালতের নির্দেশের পর তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার সূর্য্যদী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেনের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল সোহাগ মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বয়ড়া পরাণপুর গ্রামের মো. আজাদ মিয়ার মেয়ে লাকী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
লাকী আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের সময় তার পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুক দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আরও অর্থের জন্য স্বামী তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতেন। একপর্যায়ে নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, গত ২৪ জুন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় লাকী আক্তার গত ২৯ জুন শেরপুরের আদালতে মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৫-এর ১১(গ) ধারায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার পর বৃহস্পতিবার সোহাগ মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার বিষয়গুলো বিবেচনা করে বিচারক এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ মিলন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যৌতুকের মামলায় আদালতের নির্দেশে পুলিশ সদস্য সোহাগ মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে মামলায় ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি এখন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।