
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধায় বিএনপির জেলা কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত যুবদল অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রনজিত বকশি সূর্য (৬৮)। তিনি গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা। পুলিশ জানায়, রাত ১০টার দিকে গাইবান্ধা শহরের ভিএইচইডি রোড এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে একটি মিছিল থেকে কয়েকজন ব্যক্তি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের হাতে লাঠি, লোহার রড, কুড়াল, শাবল, ধারালো অস্ত্র, ককটেল ও পেট্রোল ছিল বলেও এজাহারে দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে থাকা যুবদল অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপের পর বিস্ফোরণ ঘটানো এবং পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, যুবদল অফিসে থাকা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি বাইরে নিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল। দরজা, জানালা ও বারান্দার রেলিংয়েও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবদলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় মামলাটি করা হয়। সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৫০ থেকে ১৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করার কথা জানা গেছে।
সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রনজিত বকশি সূর্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
তবে মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।