
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার অধিকাংশ শেষ হলেও বন্যার কারণে স্থগিত থাকা কয়েকটি পরীক্ষা এখনো বাকি রয়েছে। এসব পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত পরীক্ষাগুলোর শেষটি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ফল তৈরির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে নভেম্বরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। তবে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে এসব পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো ২০ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। ফলে অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার শেষ দিনে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র এবং শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চতর গণিত দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা গত ১ আগস্ট শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফল প্রকাশের আগে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর সংরক্ষণ, ফল প্রস্তুত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। স্থগিত পরীক্ষাগুলো শেষ হওয়ার পর এসব প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
তবে নভেম্বরের শুরুতে ফল প্রকাশের বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য সময় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে সেটিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
ফল প্রকাশের সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশেষ করে স্থগিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য ফল প্রকাশের সময়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।