বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশা চালান ইয়াসমিন, সহায়তা ডিসির

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

চট্টগ্রামে স্বামীর অসুস্থতা ও সংসারের নানা সংকটের মধ্যেও তিন সন্তানকে নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন ইয়াসমিন আক্তার। নিজের শ্রমে পরিবার চালানোর এই সংগ্রামের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর ইয়াসমিনের স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তার নিয়মিত কাজ করার সামর্থ্য নেই বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। স্বামীর চিকিৎসা, তিন সন্তানের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন সংসার খরচ সামলানোর দায়িত্ব অনেকটাই ইয়াসমিনের ওপর এসে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নামেন তিনি।
স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াসমিনের পারিবারিক পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন জেলা প্রশাসক। পরে গণশুনানিতে ইয়াসমিন নিজেই অটোরিকশা চালিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে নিজের পরিবারের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ইয়াসমিনের বক্তব্য শোনার পর তার পরিশ্রম ও সাহসের প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। সন্তানদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে তাকে উৎসাহ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বাইরে গিয়ে ইয়াসমিনের অটোরিকশার পাশে দাঁড়ান এবং তার সঙ্গে ছবি তোলেন।
এ সময় ইয়াসমিনের সংগ্রামের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে নিজে কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। নিজের শ্রমের মাধ্যমে সন্তানদের দেখভাল করার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, ইয়াসমিনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও কিছু উপহার দেওয়া হয়। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
সহায়তা পাওয়ার পর ইয়াসমিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে তার অনেক কষ্ট হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় তিনি উপকৃত হয়েছেন।
গণশুনানিতে উঠে আসে আরও সংকট
জেলা প্রশাসকের ওই গণশুনানিতে শুধু ইয়াসমিনের বিষয় নয়, আরও বেশ কয়েকজন অসহায় মানুষের নানা সমস্যার কথা উঠে আসে। কেউ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারার কথা জানান, আবার কেউ কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার চালাতে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। একজন শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও জানান বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তার বাবা দিনমজুর হওয়ায় পরিবারের ব্যয়ের পাশাপাশি পড়াশোনা, যাতায়াত ও শিক্ষা উপকরণের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও অর্থসংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কিডনি রোগে আক্রান্ত এক নারীকে নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে সমস্যার কথা বলতে দেখা যায়। ক্যানসারে আক্রান্ত আরেক ব্যক্তিও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন বলে জানা গেছে। প্যারালাইসিসের কারণে কর্মক্ষমতা হারানো কয়েকজনও চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ চালাতে সমস্যার কথা জানান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই দিনের গণশুনানিতে সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী অংশ নেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার আবেদনকারীদের পাশাপাশি জমিজমা, সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগও ছিল। অনলাইনে যুক্ত হয়ে একজন প্রবাসী নিজের সমস্যার কথা জানান।
সব আবেদন ও অভিযোগ শোনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো আবেদন গ্রহণ করার পর সেটির কী অগ্রগতি হলো এবং কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীকে তা জানানোও প্রশাসনের দায়িত্ব।
গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন সংকট সরাসরি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট