বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

গ্রামের ঘরে পোশাক কারখানা, বদলেছে শত নারীর জীবন

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত এলাকায় ছোট পরিসরে পোশাক তৈরির উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন এক দম্পতি। নিজেদের বাড়িতেই গড়ে তোলা এই ক্ষুদ্র কারখানায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে শতাধিক নারী বিভিন্ন ধরনের কাজে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে ঘরে বসে থাকা অনেক নারী নিজ এলাকায় থেকেই আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী পাগলার চওড়া এলাকায় বসতবাড়িতে এই পোশাক তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আসাদুল হাবিব ও তার স্ত্রী শিউলি বেগম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে কাপড় কাটা, রং করা, নকশা তৈরি ও পোশাক তৈরিসহ বিভিন্ন কাজ চলে বলে জানা গেছে।
উদ্যোক্তা দম্পতির ভাষ্য, কয়েক বছর আগে জীবিকার প্রয়োজনে তারা ঢাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে পোশাক তৈরির সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তারা। তবে দীর্ঘদিন রাজধানীতে থাকার পর নিজ এলাকার প্রতি টান থেকে গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় বেকার নারীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির চিন্তা করেন।
তাদের দাবি, শুরুতে স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে অল্প পরিসরে কাজ শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাদের কার্যক্রমে প্রায় শতাধিক নারী যুক্ত হয়েছেন। কারখানায় জামা, ওড়না, থ্রি-পিসসহ নারীদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করা হয় বলে জানান তারা। বিভিন্ন শহরের বাজার থেকে পাওয়া অর্ডারের ভিত্তিতে এসব পোশাক সরবরাহ করা হয় বলেও জানা গেছে।
শুধু কারখানায় উপস্থিত হয়ে নয়, অনেক নারী বাড়িতে বসেও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বিশেষ করে বুটিকের কাজ ও পোশাকে চুমকি লাগানোর মতো কাজ বাড়িতে বসে করার সুযোগ রয়েছে। কাজ শেষ হলে নারীরা তা কারখানায় এনে জমা দেন।
কারখানায় কাজ করা আনিছা খাতুন বলেন, আগে কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো। কখনো কাজ মিলত, আবার কখনো কাজ পাওয়া যেত না। এখন নিজের এলাকার কারখানায় কাজ করায় তার সংসারে স্বচ্ছলতা কিছুটা বেড়েছে বলে তিনি জানান।
আরেক কর্মী রিয়া আক্তার বলেন, আগে বাড়িতে বসেই সময় কাটাতে হতো। বর্তমানে কারখানার দেওয়া কাপড়ে বুটিকের কাজ ও চুমকি লাগিয়ে আয় করছেন। এ কাজের জন্য প্রতিদিন কারখানায় যেতে হয় না বলেও জানান তিনি।
ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল করিম বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় এমন একটি উদ্যোগ গড়ে ওঠায় স্থানীয় নারীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, সরকারি সহায়তা পেলে এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। উদ্যোক্তারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
উদ্যোক্তা দম্পতি জানান, ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও স্থানীয় নারীকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট