
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে জানা গেছে, পুনঃনিরীক্ষণের পর ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। একই প্রক্রিয়ায় নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তনের কারণে আরও অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফলে সংশোধন এসেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে আবেদনকারীদের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল নির্ধারিত ওয়েবসাইটেও দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত। এরপর প্রায় ২৪ দিন ধরে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং মোট উত্তরপত্রের আবেদনের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
জানা গেছে, লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি উত্তরপত্র এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছিলেন, আবেদন করা উত্তরপত্র শুধু নম্বর যোগের ভুল যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল বা কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো বলে জানা যায়। এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।
বোর্ডভিত্তিক তথ্যেও আবেদনের বড় পার্থক্য দেখা গেছে। প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।
এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোর বোর্ডে ২৮ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। মাদরাসা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী এ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন।
এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম পাসের হার। মূল ফল প্রকাশের পর ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। এরপর আজ সেই আবেদনের ফল প্রকাশ করা হলো।