Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ, সারা দেশ

মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিকের আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: , ১৪ ২০২৬ | ০:১৪ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্পাঞ্চলে আগের তুলনায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সভায় দেশের শিল্প, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সভা শেষে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ কমবেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংকট তৈরি হওয়ার আগের পরিস্থিতির কাছাকাছি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার রাত থেকেই এ ক্ষেত্রে উন্নতি দেখা যেতে পারে বলে তিনি জানান।
সভায় শুধু তাৎক্ষণিক সংকট নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সভায় কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার একাধিক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং পরবর্তী সময়ে আরও দুটি—মোট পাঁচটি এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ চালুর কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে বলে মাহদী আমিন জানান।
এ ছাড়া দেশে নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে গ্যাসকূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। এসব কার্যক্রমের পর আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গ্যাস আমদানির অবকাঠামোর পাশাপাশি স্থলভিত্তিক টার্মিনাল ও গ্যাসলাইন সম্প্রসারণের বিষয়ও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও তেল, গ্যাস ও কয়লার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সরকার এবং বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করা কঠিন হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক হবে, তা বাস্তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী, শিল্প-কারখানায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।