
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
চট্টগ্রামে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা পুলিশের উদ্যোগে নেওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত বিদেশিদের পরিচয়, বর্তমান ঠিকানা, অবস্থানের বৈধতা এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান বলে জানা গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পনগরী হওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে অনেক বিদেশি নাগরিক এখানে অবস্থান করেন। তাদের মধ্যে বৈধভাবে অবস্থানকারীদের তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে সম্প্রতি নগরীর খুলশী এলাকায় প্রতারণার অভিযোগে কয়েকজন অবৈধ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলার কোন এলাকায় কতজন বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন, তারা কী উদ্দেশ্যে এখানে থাকছেন এবং তাদের অবস্থানের বৈধতা রয়েছে কি না—এসব তথ্য পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বর্তমান ঠিকানা ও চলাচল সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) এ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশিদের তথ্য সংরক্ষণে যে ঘাটতি ছিল, তা দূর করার লক্ষ্যেই নতুনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত তথ্যভাণ্ডারে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয়, অবস্থানের স্থান, বৈধ কাগজপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট কতজন বিদেশি নাগরিক চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই কার্যক্রম নয়। বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতেই তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আরও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি নাগরিককে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অভিযোগ বা সন্দেহ তৈরি হলে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।




