
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসপি কার্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েক দিন ধরে কিছু পুলিশ সদস্য তাস খেলে জুয়ার আসর বসাচ্ছিলেন। সেখানে অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে সদর থানার একটি টহল দল সেখানে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে একটি দল ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানানো হয়েছে। তাদের আটক করতে গেলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধাক্কাধাক্কির সময় তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়।
অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। তারা হলেন—ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত এএসআই শান্তি কুমার রায়, কনস্টেবল মো. সোহেল রানা, কনস্টেবল আলমগীর কবির এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান।
এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ অর্থ এবং কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। পাশের এলাকা থেকে চারটি মোটরসাইকেলও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল বলেন, ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক দুজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেনের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে কিছু পুলিশ সদস্যের জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। পরে বিষয়টি যাচাই করে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের মতোই সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চার সদস্য বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং বুধবার তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তবে মামলার তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।




