
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে বেনামি ও মিথ্যা অভিযোগ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্তে তার ব্যবহৃত কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ থেকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের খসড়া ফাইল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে দুদক। এ ঘটনায় রাজু মো. সারোয়ার হোসেন নামের ওই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে ঘিরে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারোয়ার হোসেন তার দাপ্তরিক কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক বেনামি অভিযোগ তৈরি করেন। এসব অভিযোগে ময়মনসিংহ কার্যালয়ের উপপরিচালক রণজিৎ কুমারসহ সহকারী পরিচালক বুলু মিয়া, নুরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ও আনিসুর রহমানের নাম উঠে আসে।
অভিযোগগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর দাবি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও শিক্ষা অফিসের মতো প্রতিষ্ঠানের নামও এসব অভিযোগে ব্যবহৃত হয়।
দুদকের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর ভাষা, বাক্যগঠন ও টাইপিংয়ের ধরনে মিল পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়। পরে কর্মকর্তার ব্যবহৃত কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ পরীক্ষা করে অভিযোগগুলোর খসড়া ফাইল পাওয়ার কথা জানানো হয়। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর বিষয়টি কমিশনের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনে সারোয়ার মো. সারোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ তৈরির ঘটনাকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮’-এর সংশ্লিষ্ট বিধির আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগে ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণকারী বা তার কথার সঙ্গে একমত না হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে বেনামি অভিযোগ করা হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি অভিযোগগুলোর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সারোয়ার হোসেন পরিচিতদের কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি নিজে এসব করেননি এবং অন্য কেউ তাকে দিয়ে কাজগুলো করিয়েছে। এমনকি কমিশনের শুনানিতেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সারোয়ার হোসেন কমিশনের কাছে দাবি করেছেন যে তার কম্পিউটার ও পেনড্রাইভে অন্য কেউ অভিযোগের ফাইল ঢুকিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে। তবে তার বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ ও সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সারোয়ার মো. সারোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।




