
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামে বিএনপির একটি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় বিএনপির পাঁচ থেকে ছয়জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলেও তারা দাবি করেছেন। পরে পাল্টা ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর এবং তার পাটের গোডাউনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক ওয়ার্ড কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে কয়েক ডজন লোক সেখানে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় কার্যালয়ে থাকা কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে বলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এতে পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন। তবে আহতদের পরিচয় বা তাদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আরও দাবি করেছেন, এর কয়েক দিন আগে মিছিল করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি নাশকতার মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় রুহুলসহ কয়েকজন আসামি ছিলেন বলে তারা জানান। মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এলাকায় ফেরার পরই বিএনপি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে তাদের অভিযোগ। এসব দাবি বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর করেন এবং তার পাটের গোডাউনে আগুন দেওয়া হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সংবাদপ্রতিবেদনগুলোতে দুই পক্ষের অভিযোগের কথা উঠে এলেও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর নলকোলা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




