
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ২০ শয্যার এই ওয়ার্ডে বর্তমানে ৮৬ জন রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। জায়গার সংকটে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের পাশাপাশি বারান্দা, প্রবেশপথ ও হাসপাতালের বাইরেও অবস্থান করতে দেখা গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। ওয়ার্ডের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কয়েকজন রোগী হাসপাতাল ভবনের বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কারও স্যালাইন গাছের ডালের সঙ্গে ঝোলানো ছিল। আবার অসুস্থ শিশুদের কোলে নিয়ে স্বজনদেরও বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে ৮৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় এ সংখ্যা চারগুণের বেশি। এর পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন করে প্রায় ১০ থেকে ২০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে পুরোনো রোগীদের সঙ্গে নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় ওয়ার্ডে নিয়মিতই অতিরিক্ত চাপ থাকছে।
সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ইপিজেড এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া ইসলাম তাঁর ১৬ মাস বয়সী নাতনিকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তিনি জানান, শিশুটিকে ভর্তি করার পর ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গা পাওয়া যায়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে গাছের নিচে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শিশুটির মা জান্নাতুল বেগম জানান, অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ সময় কোলে বসে থাকতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডের ভেতরে প্রচণ্ড গরম এবং একটি শয্যায় একাধিক রোগী থাকায় সেখানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে শিশুর চিকিৎসার প্রয়োজন থাকায় বিকল্প না থাকায় হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে।
কচুকাটা এলাকার মল্লিনা আক্তারও তাঁর আট মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি জানান, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যেও সরকারি হাসপাতালেই শিশুর চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জান্নাতুন মাওয়া বলেন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নির্ধারিত ধারণক্ষমতা ২০ জন হলেও প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আগের রোগীদের অনেকে তখনও হাসপাতালে থাকায় মোট রোগীর সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ জনের মধ্যে থাকছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যেও নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি জানান, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় চারগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর কারণে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে খালি থাকা কিছু শয্যাতেও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকায় সীমিত শয্যা ও অবকাঠামোর মধ্যে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের স্বাভাবিক পরিবেশে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত জায়গা ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।




