Eng
আইন-আদালত, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ, সারা দেশ

ছয় মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যা শূন্যে, বললেন আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: , ১৭ ২০২৬ | ০:৩২ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

গত ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আমেরিকান সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাকস্বাধীনতা এবং সাইবার আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গত ছয় মাসের পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তার এই বক্তব্যটি মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা দাবি।
বাকস্বাধীনতার বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগের সঙ্গে ব্যক্তির সম্মান ও অধিকার রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এককভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হবে। এসব মতামত বিবেচনার পর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে সংশোধনী প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কথা জানান তিনি। এর আগে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া নিয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির পর্যালোচনা ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের কার্যক্রমের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। সাংবিধানিক শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন মো. আসাদুজ্জামান। তার ভাষ্য, ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করাই সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামী সংবাদমাধ্যমের নামে ফটোকার্ড ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান আইনমন্ত্রী। তবে কী ধরনের ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো কাঠামো তুলে ধরা হয়নি।
আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের দর্শন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের প্রয়োজন পরিবর্তিত হয়। তাই সেই প্রয়োজন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনও পরিবর্তন ও সংশোধন করা প্রয়োজন। নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের কথা জানান তিনি।
সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এরই মধ্যে সংশোধনী খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনীতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।