Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

দক্ষ চিকিৎসক থাকলেও বিদেশমুখী রোগী, প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: , ২০ ২০২৬ | ০:১৩ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

দেশে দক্ষ ও মেধাবী চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে দেশের চিকিৎসকরাই অনেক ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম হবেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়ানো প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবার মান ও সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমতে পারে। একই সঙ্গে এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চাপও কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করাও জরুরি।
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আধুনিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। আগামী বাজেটে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাকে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সন্তান ধারণে সমস্যার কারণে অনেক দম্পতিকে সামাজিক কটূক্তি ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চিকিৎসার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধানের সুযোগ থাকলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এ খাতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় দেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতা রয়েছে এবং এ ধরনের চিকিৎসার জন্য রোগীদের দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ সফলতাও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে পারে।
দেশের জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে শুধু হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মুসারাত সুলতানা। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সহকারী অধ্যাপক ডা. উমা নাগ শম্পা অনুষ্ঠানে মুখবন্ধ পাঠ করেন।