Eng
অপরাধ, চট্টগ্রাম, জাতীয়, লিড নিউজ

বাসের যাত্রীর ফাইলে মিলল প্রায় ২০ হাজার ইয়াবা

প্রকাশিত: , ২৪ ২০২৬ | ০:৩৫ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় মো. শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, চট্টগ্রাম শহর থেকে একটি বাসে করে ইয়াবার চালান ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল পৌনে ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মেরিন ইঞ্জিন স্টোরের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস পৌঁছালে সেটিকে থামানো হয়। পরে বাসে থাকা যাত্রীদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় শহিদুল ইসলাম নামে ওই যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে তার কাছে থাকা দুটি অ্যাশ রঙের কোর্ট ফাইলের ভেতর থেকে ইয়াবার প্যাকেট পাওয়ার কথা জানিয়েছে অভিযানকারী দল। বাইরে থেকে ফাইল দুটি সাধারণ নথিপত্র রাখার সামগ্রী মনে হলেও ভেতরে বিশেষভাবে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো নীল রঙের পলিজিপার প্যাকেটে রাখা ছিল। প্যাকেটগুলো কসটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ফাইলের ভেতরে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। পরে গণনা করে মোট ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বলে জানানো হয়েছে।
আটক শহিদুল ইসলাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দরগাপাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে মহাসড়কে মাদক পরিবহন ঠেকাতে তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। যাত্রীবাহী পরিবহনে মাদক বহনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এখন উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।