
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সম্পদ, আয় ও দায়সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে তার দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া এই হলফনামায় তিনি নিজের আর্থিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমানের নামে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা বাণিজ্যিক স্থাপনা নেই। তবে তার মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আয়কর নথি অনুসারে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকার কিছু বেশি। বিপরীতে তিনি আয়কর হিসেবে পরিশোধ করেছেন ১ লাখ ১ হাজার টাকারও বেশি।
ব্যাংক হিসাব ও নগদ অর্থ মিলিয়ে তারেক রহমানের নামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ। নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও অন্যান্য আমানত রয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া ব্যাংক ও হাতে নগদ মিলিয়ে তার নিজস্ব অর্থের পরিমাণ ৩১ লাখ টাকারও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রীর নামে থাকা নগদ ও ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ৬৬ লাখ টাকার বেশি।
হলফনামায় শেয়ার ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়—এমন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে তার বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া কিছু কোম্পানিতে অংশীদারত্ব এবং শেয়ার বাবদ অর্থের কথাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নামে কোনো কৃষিজমি নেই। তবে অকৃষি জমি হিসেবে তার নামে প্রায় ২ দশমিক ০১ একর জমি রয়েছে। এছাড়া আবাসস্থল বা ভবন সংক্রান্ত জমির পরিমাণও সীমিত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রীর নামে যৌথ মালিকানায় জমি ও একটি ভবনের তথ্যও হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্যক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান দ্বৈত নাগরিক নন। তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান এলাকার একটি বাসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ উল্লেখ করেছেন। বয়স ৫৭ বছরের বেশি বলেও হলফনামায় জানানো হয়েছে।
আইনগত অবস্থান সম্পর্কে হলফনামায় বলা হয়েছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো চলমান ফৌজদারি মামলা নেই। অতীতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে খালাস, প্রত্যাহার কিংবা অব্যাহতি পাওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
পেশা হিসেবে তিনি রাজনীতিকে উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান পেশায় একজন চিকিৎসক এবং কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান ছাত্রী।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন যাচাই, আপিল, প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং প্রচারণার নির্ধারিত সময়সূচিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই হলফনামা প্রকাশের মাধ্যমে একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার সম্পদ ও আয়ের চিত্র জনসমক্ষে উঠে এলো, যা নির্বাচনকালীন স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।